মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

□ ফুলপুর উপজেলার পটভূমি

 

উত্তর ময়মনসিংহে মরা খড়িয়া নদীর তীরে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট পাকা রাস্তার পাশে ফুলপুর একটি থানা । ফুলপুরের প্রাচীন নাম ছনকান্দা। ইংরেজ সাহেবদের উচ্চারণে তা হয়ে উঠেছে চান্দকোগুা। আবার কারো লেখায় তা চাঁদকোগুা। জরিপ ও পরিসংখ্যান সংক্রান্ত কাগজে ফুলপুর ইউনিয়নে মাগনফুলপুর নামে ২১ একর জমি নিয়ে একটি গ্রামের নাম দেখা যায় (জে.এল.নং- ৯৬) । কাজিয়াকান্দা, আমুয়াকান্দা অংশ বিশেষ এবং মাগন ফুলপুরের সমগ্র জমি নিয়ে ফুলপুর থানা সদর এলাকা গঠিত। মাগন ফুলপুরের নামে থানা সদরের নাম ফুলপুর হয়েছে। ১৮২৫খ্রিঃ,র আগে বৃহত্তর ময়মনসিংহে প্রথম যে ১২টি থানা স্থাপিত হয়েছিলো তন্মধ্যে ফুলপুর অন্যতম। তা সত্ত্বেও জনসাধারণের নিকট প্রাচীন কাল থেকে এ স্থান ছনকান্দা নামে পরিচিত ছিলো। ফুলপুরের উত্তরাংশের বাজারটি এখনও ছনকান্দা বাজার নামেই পরিচিত । এককালে খড়িয়ার পাড়ে ছনকান্দা বাজার ছিলো। উত্তরাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র। ইংরেজ কোম্পানী আমলের প্রথম দিক থেকে উত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল গারো, হাজং, হদী রাজবংশী ও মুসলমান কৃষকদের বিদ্রোহ ক্ষেত্র হিসাবে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ছিলো। পাহাড়ী উপজাতি গোষ্ঠীর বিদ্রোহ তৎপরতা, লুটপাট ইত্যাদি দমনের জন্য গারো পাহাড়ের পাদদেশের ঘোষগাঁও নামক গ্রামে ইংরাজ শাসকেরা একটি থানা স্থাপন করে। কিন্তু সেখান থেকে প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন ছিলো। এ ঘোষগাঁও থানার পুলিশী কার্যক্রম ফুলপুর থেকে চালানো  হতো। ফলে ফুলপুরের থানা কার্যালয়সহ চতুর্দিকে কিছু অংশ ঘোষগাঁওনামে পরিচিত হয়ে উঠে। ফুলপুর হাইস্কুলের নাম ছিল ঘোষগাঁও যতীন্দ্র হাইস্কুল। বিদ্রোহের পটভূমিতে ফুলপুর বা ছনকান্দা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। থানা ঘোষগাঁও পর্বতের মধ্যে ঐ নামের গ্রামে অবস্থিত নয় বরং বার ক্রোশ দক্ষিণে চাঁদকোগুায় (ছনকান্দা) অবস্থিত.....ছিলো। ঘোষগাঁও এর মুন্সেফিটি ফুলপুরে (ছনকান্দা) অবস্থিত ছিল । ফুলপুর এলাকার ৫০ বছর আগের শতায়ু মুরুব্বীদের মুখ থেকে জানা গেছে যে তারা যৌবনকালে নেত্রকোণা অঞ্চলের লোকজনদের ছনকান্দা এসে কোর্টে মামলা করতে দেখেছেন। নেত্রকোণাতে কোর্ট কাছারী হওয়ার পর তা বন্ধ হয় এবং ফুলপুরের মুন্সেফী উঠে যায়।

প্রসঙ্গতঃ  উল্লেখ্য যে এ অঞ্চল মুসলিম আদিপত্যের আগে ছনকান্দা এলাকাসহ পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত উজান জোয়ার (বিভাগ), প্রাচীন সুসঙ্গ রাজ্যের ছয়টি জোয়ারের অন্যতম। ছনকান্দা অথবা তার আশেপাশে খড়িয়ার পাড়ে কোথাও রাজ্যের ছয়টি জোয়ারের অন্যতম । ছনকান্দা অথবা তার আশেপাশে খড়িয়ার পাড়ে কোথাও উজান জোয়ারের শাসনকেন্দ্র ছিলো। উজান জোয়ারের লাগালাগি পুব দিকের জোয়ারের নাম বওলা জোয়ার। প্রাচীনকালে যে সময় শেরপুর, নাসিরাবাদ, সুসঙ্গ-দুর্গাপুর বলতে কোন নামই ছিলোনা সে সময় বওলাও উজান জোয়ার নামক জোয়ার দুটোর অনেক গুরুত্ব ছিলো তৎকালীন একটি  শস্যভান্ডার হিসাবে। এ দু জোয়ার শাসন কেন্দ্র সমৃদ্ধ জনপদ ছিলো। অতি প্রাচীন কাল থেকে ছনকান্দা জনবসতি ও বাণিজ্য সর্বত্র প্রসিদ্ধ ছিলো। (দর্জি আব্দুল  ওয়াহাব, ২০০২,ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহাসিক নিদর্শন)১৯৮৩খি:ফুলপুর,থানা উপজেলার রূপারন্তরিত হয়। উপজেলা ১০ টি ইউনিয়ন, ১৬৯ টি মৌজা, ২১১ টি গ্রাম ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter